Prosenjit World

(A Day In Life To Save Something)

Latest Post

 



একটি পাতার গল্প
-প্রসেনজিৎ দলুই

একটি পাতা,
তবু সে কোনো গাছের পাতা নয়,
নিঃশব্দে বুকে আগলে রাখে
হাজার জীবনের পরিচয়।
সেই পাতাতেই প্রথম লেখা
শিশুর কাঁপা অক্ষরখানি,
সেই পাতাতেই জন্ম নেয়
মানুষের স্বপ্ন আর জীবনের বাণী।
কখনো সে বইয়ের পাতা,
জ্ঞান যেখানে আলো ছড়ায়,
অন্ধকারের পথ ভুলিয়ে
নতুন দিনের দিশা দেখায়।
কখনো আবার খাতার পাতায়
ছাত্রের হাজারো আশা,
কলমের নীল,কালো আঁচড় জুড়ে
ভবিষ্যতের ভালোবাসা।
কখনো ডায়েরির পাতায়
চুপিচুপি জমে থাকা ব্যথা,
হাসি-কান্না, না-বলা কথা,
মনের গোপন সব অনুভূতি লেখা।
কখনো প্রেমপত্রের পাতায়
ভালোলাগার মিষ্টি ছোঁয়া,
কখনো আবেদনপত্র হয়ে
জীবনের নতুন দরজা খোলা।
কখনো অফিস ফাইলের ভাঁজে
দায়িত্বের গুরুগম্ভীর ভাষা,
নোটশিটের প্রতিটি লাইনে
কর্মব্যস্ত দিনের আশা।
কখনো সংবাদপত্রের পাতায়
দেশ-বিদেশের খবর ভাসে,
মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প
প্রতিদিন নতুন রূপে আসে।
কখনো প্রেসক্রিপশনের পাতায়
লেখা থাকে সুস্থতার দিশা,
ব্যাংকের কাগজে জমে থাকে
পরিশ্রমে গড়া ভবিষ্যতের আশা।
আদালতের দলিলের পাতায়
আইনের কঠিন সত্যি লেখা,
সভ্যতার ইতিহাস বয়ে চলে
সময়ের বুক চিরে একা।
কখনো আমন্ত্রণপত্র হয়ে
আনে আনন্দের বারতা,
আঁকার খাতার রঙিন পাতায়
ফুটে ওঠে শিশুমনের কথা।
গানের খাতায় সুরের ছোঁয়ায়
জন্ম নেয় কবিতা আর গান,
ধর্মগ্রন্থের পবিত্র পাতায়
মানুষ খুঁজে জীবনের জ্ঞান।
কখনো ক্যালেন্ডারের পাতায়
সময়ের হিসেব রাখা হয়,
মানচিত্রের পাতায় আবার
অজানা পৃথিবীকে জানতে  শেখায়।
একটি পাতা
তবু কত রূপ তার!
গাছের পাতার মতোই সে করে
জীবন জুড়ে অপরিসীম উপকার।
কারণ,

মানুষের জ্ঞান, স্মৃতি আর অনুভব
বেঁচে থাকে সেই পাতার মাঝেই,
একটি ছোট্ট পাতার বুকেই
লুকিয়ে রাখে পৃথিবী যেন তার সবটাই।
 
তাই তো একটি পাতা শুধু
সাদা কাগজ হয়ে থাকে না,
মানুষের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে
নিঃশব্দ সাথী হয়ে দেয় প্রেরনা।
কখনো পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হয়ে
ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দেয়,
কখনো চাকরির নিয়োগপত্র
নতুন স্বপ্নকে বুকে বেঁধে নেয়।
কখনো জন্মসনদের পাতায়
একটি নতুন প্রাণের পরিচয়,
আবার মৃত্যুসনদের নীরব রেখায়
শেষ বিদায়ের করুণ সময়।
কখনো চিঠির পাতায় ভেসে আসে
দূরের মানুষের মনের ভাষা,
কখনো পুরোনো কাগজ ছুঁলেই
জেগে ওঠে হারিয়ে যাওয়া আশা।
এক টুকরো পাতার মাঝেই যেন
জমে থাকে সময়ের গল্প,
হাজার মানুষের সুখ-দুঃখ
আর জীবনের সংকল্প।
কখনো কৃষকের হিসেবের খাতা,
কখনো শ্রমিকের ঘামের দাম,
কখনো কবির কল্পনার ডানা,
কখনো শিল্পীর রঙিন অবিরাম।
কখনো বিজ্ঞানীর গবেষণাপত্র
মানবজাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়,
কখনো বিপ্লবীর রক্তমাখা লেখা
ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রয়।
পাতা মানেই শুধু কাগজ নয়,
এ যেন স্মৃতির নীরব ঘর,
যেখানে লুকিয়ে থাকে
মানুষের হাসি, কান্না আর অন্তর।
একটি ছোট্ট পাতার ভাঁজে
কত শত জীবনের রেশ,
কত অজানা গল্প সেখানে
সময়ের সাথে মিশে শেষ।
আজও মানুষ কলম হাতে
পাতার বুকেই স্বপ্ন আঁকে,
পাতাই শেখায় হার না মেনে
নতুন পথের দিকে ডাকে।
তাই একটি পাতার গল্প
কখনো শেষ হয়ে যায় না,
মানুষ বেঁচে থাকা পর্যন্ত

পাতার মহিমা ফুরায় না।

 


জীবনের চার অধ্যায়

-প্রসেনজিৎ দলুই

জীবনের চার অধ্যায়

শৈশব থেকে কৈশোর,

কৈশোর থেকে যৌবন,

যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্য,

আর শেষে মৃত্যুর নিঃশব্দ আহ্বান

জীবন সত্যিই শুধু এই চার অধ্যায়ের গল্প কী?

নাকি এর মাঝেই লুকিয়ে থাকে

হাজার মানুষের মুখ,

অগণিত অনুভূতি,

ভাঙা-গড়ার ইতিহাস,

আর সময়ের গভীর শিক্ষা ?

 

প্রথম অধ্যায় — শৈশব-

 

শৈশব মানেই বাবার শক্ত হাত,

মায়ের আঁচলে লুকিয়ে থাকা নিশ্চিন্ত ভালোবাসা।

তার সঙ্গে দাদু-ঠাকুমা,

দিদা-দাদু, মাসি-পিসি, ভাই-বোন,

আর কত আপন মানুষ

যারা বুকভরা স্নেহে আগলে রাখত ছোট্ট প্রাণটাকে।

তখন পৃথিবীটা ছিল খুব ছোট,

কিন্তু ভালোবাসায় ভরা ছিল অসীম।

একটা ভাঙা খেলনাতেই আনন্দ ছিল,

একটা নতুন জামায় পূজোর খুশি,

পয়লা বৈশাখে নতুন স্বপ্ন,

দুর্গাপূজোর আলোয় হারিয়ে যাওয়া সন্ধ্যা।

বৃষ্টির দিনে কাদামাটির গন্ধ,

ছাদের ওপর চাঁদ দেখা,

মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙা সকাল

সবকিছুই যেন ছিল স্বর্গের মতো সহজ।

তখন অভাব বুঝতাম না,

টাকার মূল্য জানতাম না,

মানুষের মুখোশ চিনতাম না।

শুধু জানতাম

ঘরে ফিরলেই কেউ না কেউ অপেক্ষা করে আছে।

কিন্তু সময় সব স্মৃতি ধরে রাখে কী?

না কি ধীরে ধীরে

সবাই বড় হয়ে যায়,

আর শৈশব শুধু ছবির অ্যালবামে আটকে থাকে?

 

দ্বিতীয় অধ্যায় — কৈশোর-

 

তারপর আসে কৈশোর

স্কুলের মাঠ,

খাতার ভাঁজে লুকিয়ে থাকা স্বপ্ন,

ছোট ছোট বন্ধুদের নিষ্পাপ হাসি।

মনে কোনো পাপ ছিল না,

ছিল শুধু সরলতা আর অগাধ বন্ধুত্ব।

টিফিন ভাগ করে খাওয়া,

শেষ বেঞ্চে গল্প করা,

পরীক্ষার আগের ভয়,

রেজাল্টের পর হাসি-কান্না

সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত সুন্দর পৃথিবী।

তখন প্রথম মন খারাপ হতো,

প্রথম কাউকে ভালো লাগত,

প্রথম নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শিখত মন।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে

নিজেকেই নতুন করে চিনতে শুরু করত মানুষ।

কেউ ডাক্তার হতে চাইত,

কেউ ইঞ্জিনিয়ার,

কেউ শিল্পী, কেউ কবি

স্বপ্নগুলো তখন আকাশের মতো বড় ছিল।

কিন্তু সেই কৈশোরও একদিন ফুরিয়ে যায়।

বন্ধুরা আলাদা পথে হাঁটে,

কেউ দূরে চলে যায়,

কেউ স্মৃতির ভিড়ে হারিয়ে যায়।

আজও কি মনে পড়ে সেই দিনগুলো?

নাকি জীবনের স্রোতে হারিয়ে গেছে সব?

 

তৃতীয় অধ্যায় — যৌবন-

 

এরপর আসে যৌবন

জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ, সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়।

কিছু সুন্দর স্মৃতি তখনও পাশে থাকে,

কিন্তু তার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায় দায়িত্ব।

বাঁচতে হলে লড়তে হয়,

সংসার গড়তে হয়,

পরিবারের ভার কাঁধে তুলে নিতে হয়।

সকালের ব্যস্ততা,

অফিসের ক্লান্তি,

অপূর্ণ চাহিদা,

অগণিত হিসেব

সব মিলিয়ে জীবন তখন

এক কঠিন বাস্তবতার নাম।

তবুও মানুষ থেমে যায় না।

কারণ বুকের ভেতর তখনও

কিছু স্বপ্ন বেঁচে থাকে।

হাজার কষ্টের মাঝেও

মন কখনো খুঁজে ফেরে ভালোবাসা

সেই যৌবনের গভীর, অদ্ভুত, মায়াভরা ভালোবাসা।

কখনো সম্পর্ক ভাঙে,

কখনো প্রিয় মানুষ দূরে চলে যায়,

কখনো নিজের মানুষরাই ভুল বোঝে।

তবুও মানুষ হাসে,

কারণ তার কাঁধে তখন

বাবা-মায়ের আশা,

সন্তানের ভবিষ্যৎ,

আর পরিবারের অসংখ্য নির্ভরতা।

যৌবন শেখায়

সবাই পাশে থাকে না,

সব স্বপ্ন পূরণ হয় না,

তবুও পথ চলা থামানো যায় না।

 

 

চতুর্থ অধ্যায় — বার্ধক্য

 

তারপর ধীরে ধীরে আসে বার্ধক্য।

শরীরের শক্তি ফুরিয়ে যায়,

চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়,

হাঁটার গতি ধীর হয়ে আসে।

কিন্তু মনের ভেতর জেগে ওঠে ভক্তি আর স্মৃতি।

তখন খুব মনে পড়ে

বাবা-মা, ভাই-বোন,

দাদু-দিদা, মাসি-পিসি,

শৈশবের সেই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো।

যাদের সঙ্গে একদিন

হেসেছিলাম, কেঁদেছিলাম,

তাদের অনেকেই তখন আর পাশে থাকে না।

কেউ সময়ের কাছে হেরে গেছে,

কেউ দূরত্বের দেয়ালে হারিয়ে গেছে।

জীবনের পথ তখন শেখায়

কত ভুল ছিল, কত ঠিক ছিল,

কত মানুষ এসেছিল,

আবার কত মানুষ হারিয়েও গেছে।

বার্ধক্যে এসে মানুষ বুঝতে শেখে

অহংকারের কোনো মূল্য নেই,

টাকারও সীমা আছে,

শেষ পর্যন্ত রয়ে যায় শুধু

ভালোবাসা আর ব্যবহার।

আর তখনই চোখে পড়ে

ছোট ছোট কিছু শিশু

যারা আজ খেলছে, হাসছে, স্বপ্ন দেখছে।

কিন্তু তারাও একদিন

পেরিয়ে যাবে জীবনের সেই চার অধ্যায়।

 

শেষ অধ্যায় — মৃত্যু

 

শেষে আসে মৃত্যু

সব কোলাহল থেমে যায়,

সব দৌড় শেষ হয়ে যায়।

শুধু চোখের কোণে ভেসে ওঠে

অপূর্ণ কিছু স্বপ্ন,

কিছু না বলা কথা,

কিছু প্রিয় মুখ,

আর জীবনের সেই চার অধ্যায়ের গল্প।

মানুষ তখন বুঝতে পারে

জীবন খুব ছোট ছিল,

কিন্তু ভালোবাসাগুলো ছিল অসীম।

কেউ সঙ্গে করে টাকা নিয়ে যায় না,

নিয়ে যায় না কোনো অহংকার,

শুধু রেখে যায় স্মৃতি,

কিছু কাজ,

আর কিছু মানুষের হৃদয়ে

নিজের অস্তিত্বের ছাপ।

জীবন আসলে এক চলমান কবিতা

যেখানে শুরু আছে, শেষ আছে,

হাসি আছে, কান্না আছে,

পাওয়া আছে, হারানো আছে।

কিন্তু মাঝখানের ভালোবাসাগুলোই

মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।

আর সেই ভালোবাসার মধ্যেই

মানুষ মৃত্যুর পরেও

অমর হয়ে থাকে।






 



দেশপ্রেমের দীপ্ত শিখানেতাজি সুভাষ লহ প্রণাম

-প্রসেনজিৎ দলুই


হে সর্বত্যাগী দেশপ্রেমিক- তোমার জন্ম, শিক্ষা, কর্ম ত্যাগের অমর বাণী,

কবিতার ছন্দে তুলে ধরার আমার ক্ষুদ্র প্রয়াসখানি।

হে সুভাষ, জাতির হৃদয়ে তুমি চির অম্লান,

লহ আজি শ্রদ্ধাভরা কোটি মানুষের প্রণাম।

 

জন্ম শৈশব

 

23 জানুয়ারির ১৮৯৭ সালের এক  পবিত্র দিনে,

কটকের ধরণী হল আলোকিত এক মহামানবের আগমনে।

জানকীনাথ বসু প্রভাবতী দেবীর কোল আলো করে,

এসে গেলো বীর সন্তান, ইতিহাস যাকে নিয়ে গর্ব করে।

 

স্বভাব ছিলো শান্ত, মুখে জ্ঞানের দীপ্তি,

শৈশবে ফুটে উঠল এক নেতৃত্বের শক্তি।

সংসারে ছিলো না কোনই অভাব ,ছিল এক শিক্ষত পরিবার,

তবু তার হৃদয় জুড়ে ছিল দরিদ্রের প্রতি প্রেম অপার।

 

শিক্ষাজীবন

 

প্রথম পাঠ নিলেন র্যাভেনশ কলেজিয়েট স্কুলে

সততা, ন্যায়, দেশপ্রেম গেঁথে গেল তার হৃদয়ের মূলে।

তারপর এল কলকাতার ইতিহাস গড়া অধ্যায়,

প্রেসিডেন্সি কলেজে জেগে উঠল প্রতিবাদের মহাকায়।

 

ব্রিটিশদের অবিচার দেখে রাগে জ্বলল তাঁর দুটি নয়ন,

তরুণ সুভাষ বুঝলেন, ভাঙতেই হবে এই বন্ধন।

আইসিএস-এর কঠিন পরীক্ষা দিলেন তিনি অদম্য মনে,

কিন্তু বিদেশি চাকরি নয়, মাতৃভূমিই ছিল তার ধ্যানে।

 

রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম

 

দেশের মুক্তির জন্যই তাঁর প্রতিটি ধ্যান,

প্রতিটি নিশ্বাসে ছিল তাঁর দেশের পূর্ণ স্বাধীনতার গান।

গান্ধীর পথ ধরলেন প্রথমে শান্ত আদর্শে,

কিন্তু বুঝলেন দরকার সাহস, চরম পথের পরশে।

 

"আজাদ হিন্দ ফৌজ" গড়ে তুললেন বীর,

লক্ষ সৈনিক নিয়েই দিলেন স্বাধীনতার গীতের জ্বালানীর নীর।

দিল্লি চলো” — সেই বজ্রকণ্ঠে ওঠে ঝড়,

ভারতের মাটি যেন উঠল কেঁপে, শত্রুর বুকে দেখা দিল ভয়

 

শুধু বক্তৃতা নয়, তাঁর কণ্ঠে ছিল জোয়ার,

দেশের জন্য প্রাণ দেওয়াতাও ছিল তাঁর আদর্শের ধার।

 

শেষ অধ্যায় অমরত্ব

 

১৯৪৫, একটি বিমানে হঠাৎ থেমে গেল গতি,

কিন্তু থামেনি তাঁর আদর্শ, চলেছে শত সহস্র পুঁথি।

মৃত্যু নিয়ে আজও রহস্য, কিছু জানে না ইতিহাস,

তবে তাঁর ত্যাগ ছিল সত্য, শ্রেষ্ঠ নেতৃত্বের নিঃসংশয় প্রকাশ।

 

তাঁর নাম আজও গর্বে উচ্চারিত হয়,

নেতাজি সুভাষযিনি ভয়কে করেছেন জয়।

দেশের প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি হৃদয়ে জ্বলেন দীপ্তি হয়ে,

তিনি যেন জাতির অন্তর থেকে আলো হয়ে উঠে।

 

তুমি অমর, তুমি এক ইতিহাসের দীপ্ত প্রজ্জ্বলন,

তোমার আদর্শেই খুঁজে পাই আমরা মুক্তির অনুপ্রেরণ।

হে নেতাজি, তোমার জীবনের পাথেয় রেখে যাই,

স্মরণে তোমায় রাখব চিরকাল, যতদিন দেশমাটি আমাকে বাঁচায়।

MKRdezign

{facebook#https://www.facebook.com/prosenjitworlds} {twitter#https://twitter.com/Prosenjit_94} {google-plus#https://aboutme.google.com/u/0/?referer=gplus} {pinterest#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {youtube#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {instagram#https://www.instagram.com/prosenjit_dalui/}

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget